Ads Area


গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন প্রবন্ধ রচনা | Gorkhaland Movement Essay Writing PDF

গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন প্রবন্ধ রচনা | Gorkhaland Movement Essay Writing PDF

গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন প্রবন্ধ রচনা | Gorkhaland Movement Essay Writing- পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বর্তমান পাঠক্রম অনুযায়ী মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষায় একটি করে প্রবন্ধ রচনা প্রশ্নপত্রে এসেই থাকে। শব্দসীমা ৫০০ এবং পূর্ণমান ১০। মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে কোনো উত্তরসংকেত দেওয়া থাকে না কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে উত্তরসংকেত দেওয়া থাকে। এই নমুনা বাংলা প্রবন্ধরচনা ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সঠিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে আমরা মধ্য বিভাগের সকল শ্রেনীর বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার জন্য প্রদান করবো। নতুন নতুন প্রশ্ন পেতে নিয়মিত আমাদের Website টি Follow করো।যাইহোক, বর্তমান পোস্টে প্রকাশিত “গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন” প্রবন্ধটি মূলত মাধ্যমিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।




গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন প্রবন্ধ রচনা



ভূমিকা-


পশ্চিমবাংলায় সম্প্রতি একটি সমস্যা গুরুতর আকার ধারণ করেছে। সেটি হল বিচ্ছিন্নতাবাদ। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি উপত্যকার অধিবাসীরা সম্প্রতি দাবি করছেন, তাঁরা দক্ষিণবঙ্গের শাসনের অধীনে আর থাকতে নারাজ। তাঁরা চান স্বায়ত্বশাসন। শুধু বাংলা কেন, ভারতবর্ষের জাতীয় নীতি হল একতাবোধ। ইংরেজ শাসনক্ষমতা এ দেশ থেকে পাততাড়ি গোটাবার সময় এখানকার মানুষের মনে বিভেদের বীজ বপন করে গেছে। তারই বিষময় পরিণতি হল ভারত বিভাজন। সাম্প্রতিক কালের পাহাড়ি অধিবাসীদের গোর্খাল্যান্ডের দাবি সেই মানসিকতারই যেন প্রতিফলন।


স্বাধীনোত্তর যুগের ভারত-


ইংরেজ উপনিবেশবাদের কবল থেকে মুক্তিলাভ করবার পর ভারতে প্রজাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শুরু হয় অখণ্ড দেশ গড়ার কর্মসূচি দিয়ে। কিন্তু এই মনোভাব বেশিদিন স্থায়ি হতে পারেনি। অচিরেই তার বিভিন্ন প্রান্তে দেখা দেয় আঞ্চলিকতা ও প্রাদেশিকতার চোরাস্রোত। তাকে নানাভাবে ইন্ধন জোগাল ইংরেজ আমলে প্রতিষ্ঠিত ‘রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন’। ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের পথ ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদ প্রথম মাথা চাড়া দেয়। আজ সেই প্রবণতা মহীরুহের আকার ধারণ করে একতা, অখণ্ডতার প্রাচীরটিকেই ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে।


গোর্খা আন্দোলনের কারণ-


গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এর কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে সুদীর্ঘ বঞ্চনা ও অসন্তোষের ইতিহাস। প্রকৃতির অপরিমিত সৌন্দর্যের পীঠস্থান হল পার্বত্য অঞ্চল। এখানে রয়েছে নয়নাভিরাম চা বাগিচা। রয়েছে বিশাল বিশাল মহীরুহের অরণ্য।

আছে কমলালেবু আপেলের বাগান। নেপাল, সিকিম ইত্যাদি অঞ্চল থেকে প্রচুর শ্রমিক নিয়মিত আসতে থাকে কাজের সন্ধানে। ফলে দার্জিলিং এলাকার জনসংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৯০৭ সালে এই বর্ধিষ্ণু জনসংখ্যাই দাবি তোলে দার্জিলিং জেলাকে পৃথক প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত করার। সেই শুরু সাময়িকভাবে এই দাবি তেমন জোরালো না হওয়াতে ১৯১৭ সালে লর্ড চেমসফোর্ডের কাছে আবার সেই আবেদন পেশ হল। সেবারও প্রত্যাখ্যাত হল সে আবেদন।

বারে বারে প্রত্যাখ্যাত হয়ে মানুষের মনে তখন জমাট বাঁধছে ক্ষোভ। আরও কয়েকবছর পর দার্জিলিংকে বাংলার বাইরে রেখে পৃথক প্রশাসনের দাবি সোচ্চার হয়। এরপর ১৯৪৭ সালে এই সমস্যার কোনোরূপ মীমাংসা না করেই ভারত স্বাধীন হল। ১৯৪৭ সালে গঠন করা হল ‘উত্তরাখণ্ড’ নামে একটি সংঘ-প্রতিষ্ঠান। এই সংস্থা দাবি রাখল সিকিম, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি আর কোচবিহার নিয়ে একটি পৃথক রাজ্য গঠন করবার। ‘রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন’ দাবির যৌক্তিকতা পর্যবেক্ষণ করতে এল দার্জিলিং। 

১৯৫৭ সালে তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টি ও মুসলিম লিগ কেন্দ্রিয় সরকারের কাছে দার্জিলিং -এ স্বায়ত্বশাসনের দাবি রাখল। এরই ফলশ্রুতি স্বরূপ ১৯৮০ সালে সুবাস ঘিসিং -এর নেতৃত্বে গঠিত হল ‘গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট’; যার সংক্ষিপ্ত নাম ‘জিএনএলএফ’। ঘিসিং ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক।

তিনি পাহাড়বাসীদের মনে নিত্য নব নব উৎসাহ জোগাতে লাগলেন। দেখাতে লাগলেন নতুন নতুন স্বপ্ন। প্রথম দিকে সরকার উদাসীন থাকলেও আন্দোলন থেমে থাকল না। ১৯৮৬ সালে তা নতুন মোড় নিয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করল। রক্তাক্ত হয়ে উঠল পাহাড়ি পথ। মানুষের প্রাণ ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হল বিস্তর।



ঐতিহসিক চুক্তি-


অবশেষে ১৯৮৮ সালের ২২ শে আগস্ট কেন্দ্রিয় সরকারের মধ্যস্ততায় রাজভবনে এক ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে অবসান ঘটল রক্তঝরা আন্দোলনের। দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং ও শিলিগুড়ি মহকুমার তেরোটি মৌজা নিয়ে গঠিত হল ‘দার্জিলিং-গোর্খা পার্বত্য পরিষদ’। নেতা সুবাস ঘিসিং। এই চুক্তিতে ভারতে বসবাসকারী গোর্খাদের অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া হল। দেওয়া হল কৃষি, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, পর্যটন, পরিবহন, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, সেচ ইত্যাদি উনিশটি বিষয়ে স্বায়ত্বশাসনের ক্ষমতা। প্রত্যাহৃত হল পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি।


চুক্তির পর-


সে সময়কার আন্দোলনের এভাবে নিষ্পত্তি ঘটলেও ভারতে বসবাসকারী ডুয়ার্স অঞ্চলের গোর্খারা এই পরিষদের আওতাভুক্ত হয়নি। ফলে তাদের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। অপরদিকে, সুবাস ঘিসিং প্রকারান্তরে দক্ষিণবঙ্গের শাসক সরকারের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে বলেই পার্বত্য এলাকায় যথোপযুক্ত উন্নয়ন হল না, এই অভিযোগ এনে বিমল গুরুং -এর নেতৃত্বে এক বিদ্রোহী জন সংগঠন মোর্চা রাতারাতি সুবাস ঘিসিংকে ক্ষমতাচ্যুত করে পাহাড়ের ক্ষমতা দখল করে নেয়। এই মোর্চার প্রধান দাবি কোনো পরিষদ নয়; পুরোপুরি ‘গোর্খাল্যান্ড’ নামে পৃথক রাজ্য। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের বিভাজন। এই রাষ্ট্রীর সংকট যে কোথায় স্থিতিলাভ করবে, তা বলতে পারবে কেবল ভবিষ্যতই।

উপসংহার-


পাহাড়বাসীদের আন্দোলন সুদীর্ঘ দিনের বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলন। এ কথা সকলেই স্বীকার করেন। দরকার ছিল সহানুভূতি ও অন্তর দিয়ে পাহাড়বাসীদের বক্তব্য শোনা ও সমস্যাগুলির সমাধান করা। আমাদের রাজনৈতিক নেতারা প্রায়সই সে বিষয়ে উদাসীন থেকেছেন।

যার ভয়াবহ পরিণতি আজ এই অবস্থায় এসে হাজির হয়েছে। সংগত কারণে পাহাড়বাসীরা সমতলের কোনো নেতার কথাই বিশ্বাস করেছেন না। সেজন্য আর দেরি না করে অবিলম্বে এমন কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যার দ্বারা পাহাড়বাসীদের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করা যায়।


আরও পড়ুন-


Note: পোস্ট টি অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এ শেয়ার করুন। যদি কোন ভুল থেকে থাকে তবে তা Typing mistake এর জন্য। আমাদের comment করে জানান আমরা তা সংশোধন করে দেবার চেষ্টা করবো।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

Ads Area